৩৬ হাজার আয়ের ১৫ হাজারই ব্যয় অভুক্তদের জন্য, ফুড ডেলিভারি বয়ের হৃদয়স্পর্শী কাহিনী
অনন্যা সরকার, নয়া দিল্লি: এই কঠিন বাস্তবে ভরা দুনিয়ায়, যেখানে অনেককেই জীবনধারণের খরচ জোগাতে হিমশিম খেতে হয়, সেখানে দিল্লির ডেলিভারি … Read more
অনন্যা সরকার, নয়া দিল্লি: এই কঠিন বাস্তবে ভরা দুনিয়ায়, যেখানে অনেককেই জীবনধারণের খরচ জোগাতে হিমশিম খেতে হয়, সেখানে দিল্লির ডেলিভারি রাইডার আকাশ সরোজ তাঁর উপার্জনের প্রায় অর্ধেকই ব্যয় করেন গৃহহীন ও ক্ষুধার্ত মানুষদের মুখে দুটো অন্ন তুলে দেওয়ার জন্য (Inspirational Story)। গত ছয় বছর ধরে ডেলিভারি বয় হিসেবে কাজ করা আকাশ সোশ্যাল মিডিয়ার জন্য কনটেন্টও তৈরি করেন। কোনো রকম সহায়তা ছাড়াই, সম্পূর্ণ নিজের উপার্জন করা টাকা থেকে তিনি এই খাদ্য বিতরণের উদ্যোগটি চালিয়ে যাচ্ছেন।
বাবার আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে আকাশের সমাজসেবা
উপার্জনের একটা বড় অংশ গরিব, অসহায় মানুষদের জন্য ব্যয় করেন আকাশ সরোজ। তিনি জানান এটি তাঁর প্রয়াত বাবার আদর্শকে সম্মান জানানোর একটি উপায়। তাঁর কথায়, “আমি নিশ্চিত করতে চাই যে, কেউ যেন ক্ষুধার্ত অবস্থায় ঘুমাতে না যায়।” আকাশ মনে করেন, প্রচুর অর্থ উপার্জন নয়, সমাজের জন্য কিছু ফিরিয়ে দেওয়াই হলো প্রকৃত সাফল্য।
আকাশ জানান, ডেলিভারির কাজ করে তিনি প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১,২০০ টাকা আয় করেন। এর মধ্যে প্রতিদিন প্রায় ৫০০ টাকা তিনি খাবার জোগাড় করতে এবং অভাবী মানুষদের সাহায্য করতে ব্যয় করেন। অর্থাৎ, প্রতি মাসে প্রায় ১৫,০০০ টাকা তিনি এই জনকল্যাণমূলক কাজে উৎসর্গ করেন। তিনি মূলত দিল্লির রোহিনী, পিতমপুরা, জিটিবি নগর, জাহাঙ্গীরপুরী ও এর আশেপাশের এলাকায় রাস্তায় বসবাসকারী গৃহহীন ক্ষুধার্ত মানুষদের কাছে খাবার পৌঁছে দেন। সারাদিন ধরে ডেলিভারির কাজ করার পর খাবার বিতরণ করা শারীরিক দিক থেকে অত্যন্ত ক্লান্তিকর হলেও, তিনি কখনো থেমে থাকেননি। তাঁর কাছে এটাই পরম কর্তব্য।
আরও পড়ুন: পেনশনভোগীদের জন্য স্বস্তি! বাড়িতেই ৫ মিনিটে বানিয়ে ফেলুন ডিজিটাল লাইফ সার্টিফিকেট
উল্লেখ্য, আকাশ তাঁর কাজের অভিজ্ঞতা ও প্রত্যহ যাদের সাথে তাঁর দেখা হয়, তাদের গল্পগুলো ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করেন। তবে এই প্ল্যাটফর্ম থেকে তিনি কোনো অর্থ উপার্জন করেন না। তিনি স্পষ্ট জানান যে, ইনস্টাগ্রাম থেকে তাঁর আয় শূন্য। এই পুরো উদ্যোগটির ১০০ শতাংশই তাঁর ডেলিভারি কাজের উপার্জিত অর্থ থেকেই পরিচালিত হয়। নিজের সময়, আরাম এবং সঞ্চয় উৎসর্গ করে তিনি দিনের পর দিন নিঃশব্দে মানুষের সেবা করে চলেছেন। আকাশ দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন যে, অন্তর থেকে করলে, কোনো সেবাই ছোট নয়।