চৌকিদারের ছেলে UPSC-তে বড় সাফল্য, সাথে গড়লেন ১৫ জন পরীক্ষার্থীর ভবিষ্যৎও
অনন্যা সরকার, উত্তর প্রদেশ: সাফল্যের পথে থাকে অনেক চড়াই-উতরাই, তবে ইচ্ছাশক্তি দৃঢ় হলে যেকোনো বাধাই জয় করা সম্ভব। উত্তরপ্রদেশের আম্বেদকর … Read more
অনন্যা সরকার, উত্তর প্রদেশ: সাফল্যের পথে থাকে অনেক চড়াই-উতরাই, তবে ইচ্ছাশক্তি দৃঢ় হলে যেকোনো বাধাই জয় করা সম্ভব। উত্তরপ্রদেশের আম্বেদকর নগরের বিপিন দেব যাদবের জীবনকাহিনী এর একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত (UPSC Success Story of Vipin Dev Yadav)। পুলিশ স্টেশনের এক সাধারণ চৌকিদারের সন্তান বিপিন অভাব অনটন ও সামাজিক উপহাসকে পরোয়া না করে এগিয়ে গিয়েছেন লক্ষ্যে। তিনি শুধু ২০২৫ সালের ইউপিএসসি (UPSC) পরীক্ষায় সর্বভারতীয় পর্যায়ে ৩১৬তম স্থানই অর্জন করেননি, তার সাথে নিজের প্রচেষ্টায় আরও ১৫ জনেরও বেশি শিক্ষার্থীকে সরকারি চাকরি পেতে সাহায্য করেছেন। আসুন তাহলে বিপিন দেব যাদবের এই সাফল্যের কাহিনীটি জেনে নেওয়া যাক।
আর্থিক অনটনকে সঙ্গী করে ইউপিএসসি-এর প্রস্তুতি
ছোটবেলা থেকেই বিপিনের জীবনে আর্থিক সংকট ছিল নিত্যসঙ্গী। তাঁর বাবা একটি পুলিশ স্টেশনে চৌকিদারের কাজ করতেন এবং মা ছিলেন গৃহবধূ। তবুও, তাঁর পরিবার তাঁর স্বপ্নকে সবসময় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে। এমনকি তাঁর ভাই নিজেও আইএএস (IAS) অফিসার হওয়ার স্বপ্ন ছাড়েন ও পড়াশোনা বন্ধ করে দেন, যাতে বিপিন দিল্লিতে গিয়ে পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে পারেন। বিপিনের পরিবার একটি ফিক্সড ডিপোজিট ভেঙে ও কিষান ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে ঋণ নিয়ে তাঁর পড়াশোনার খরচ জুগিয়েছিল।
দিল্লিতে কয়েক মাস কোচিং নেওয়ার পর বিপিন বুঝতে পারেন যে, বড় কোচিং ইনস্টিটিউটগুলোর পড়ানোর পদ্ধতির সাথে তিনি মানিয়ে নিতে পারছেন না। তিনি কোচিং সেন্টার ছেড়ে দেন, সেখানকার নোটসগুলিও পড়া বন্ধ করেন। বাড়িতে ফিরে নিজেই প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করেন। লাইব্রেরিতে দীর্ঘ সময় কাটিয়ে এবং অনলাইনে উপলব্ধ মেটিরিয়াল ব্যবহার করে তিনি পড়াশোনার এক অনন্য পদ্ধতি তৈরি করেন।
আরও পড়ুন: রাস্তায় বেচতেন চুড়ি, বিনা কোচিংয়ে UPSC ক্র্যাক করে আজ IAS পোলিও আক্রান্ত রমেশ
সাফল্য পাওয়ার আগে তিনি বেশ কয়েকবার ইউনিয়ন পাবলিক সার্ভিস কমিশন (UPSC) ও উত্তর প্রদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশন (UPPSC)-এর প্রধান পরীক্ষায় ইন্টারভিউ পর্যায় পর্যন্ত পৌঁছেছিলেন, কিন্তু চূড়ান্ত মেধা তালিকায় জায়গা করে নিতে পারেননি। প্রচণ্ড মানসিক চাপ এবং দারিদ্র্যের কারণে পাওয়া নানান কটূক্তি ও উপহাস তাঁর দিকে ধেয়ে আসা সত্ত্বেও তিনি কখনোই হাল ছাড়েননি। তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন যে, সাফল্য হলো সম্পূর্ণ নিষ্ঠা এবং নিরলস কঠোর পরিশ্রমের ফসল।
অবশেষে নিজের চতুর্থ প্রচেষ্টায় বিপিন ইউপিএসসি পরীক্ষায় সফল হন এবং ৩১৬তম র্যাঙ্ক অর্জন করেন। পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়ার সময় থেকেই তিনি লখনউয়ের ‘ভাগিদারী ভবন’-এ সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে কোচিং দিতেন, তাঁর নির্দেশনায় ২০২৪ সালের ইউপিপিএসসি পরীক্ষায় ১৫ জনেরও বেশি পরীক্ষার্থী উত্তীর্ণ হন। তাঁর এই জীবনসংগ্রাম এখন দেশের বহু ছাত্রছাত্রীদের কাছে অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছে, যারা নিজেদের জীবনের নানা প্রতিকূলতা কাটিয়ে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।